শুরু হলো ৫জি চালুর প্রস্তুতি

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:১৫  
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২১-২৩ সালের মধ্যে দেশে ফাইভ-জি সেবা দিতে পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। সেই লক্ষ্যে আগামী বছরের শুরুতেই ফাইভ-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে সংস্থাটি। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই এই সেবা চালুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সূত্রমতে, মন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্প্রতি এ বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নের জন্য বিটিআরসির কমিশনারকে (স্পেকট্রাম ডিভিশন) আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব, ইন্টারনেটসেবা দানকারীদের সংগঠন আইএসপিএবির প্রতিনিধিদের এ কমিটির সদস্য করা হচ্ছে। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ৫জির একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রস্তুত করে বিটিআরসির কাছে জমা দেবে এই কমিটি। একই সময়ের মধ্যে ৫জি প্রবর্তনের রূপরেখা, এর জন্য সম্ভাব্য তরঙ্গ, তরঙ্গের মূল্য এবং বাস্তবায়নের সময় সম্পর্কে একটি প্রস্তাবও প্রস্তুত করবে। বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন প্রযুক্তির ৩জি ও ৪জির তুলনায় ৫জি প্রযুক্তির বিস্তারে সঠিক ফ্রিকোয়েন্সিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ তরঙ্গ প্রয়োজন হবে। এ প্রযুক্তিতে যথাযথ সেবা দিতে হলে অপারেটরপ্রতি নির্ধারিত ব্যান্ডের ১০০ মেগাহার্জ পর্যন্ত তরঙ্গ প্রয়োজন হতে পারে, যা ৩জি ও ৪জির তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি। ৫জির কার্যক্ষমতাও হবে ৪জির তুলনায় ন্যূনতম ১০ গুণ বেশি। আন্তর্জাতিকভাবে টেলিযোগাযোগ শিল্প ৫জির জন্য বিস্তারিত কভারেজসহ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তরঙ্গ ব্যান্ডের তিনটি ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর মধ্যে লো ব্যান্ড ও মিড ব্যান্ড ৫জির জন্য ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গ ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এ ব্যান্ডকে উত্কৃষ্ট ভাবা হচ্ছে। এদিকে গত রোববার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ বিষয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা আছে দেশে ২০২৩ সালের মধ্যেই ৫জি চালু করা হবে। আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি এবং ইতিমধ্যেই এর নীতিমালা তৈরিসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে।’ এর দুইদিন পর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এখনো ফোর-জি, এমনকি দেশের অধিকাংশ জায়গায় থ্রি-জিও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এই পরিস্থিতিতে ফাইভ-জি হবে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। আগে কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে। প্রসঙ্গত, গত বছর ২৫ জুলাই সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবির সহায়তায় দেশে প্রথমবারের মতো ‘৫জি’ পরীক্ষা ও সেবা প্রদর্শন করে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। প্রদর্শনীতে ‘ফাইভ জি’ এর গতি ছিল ৩ দশমিক ৮৯ জিবিপিএস থেকে ৪ দশমিক ০৯ জিবিপিএস পর্যন্ত। রাজধানীর একটি হোটেলে ওই প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, যদি দেশের মানুষ ভোট দিয়ে আমাদের আবারও ক্ষমতায় আনে তবে আমরা দেশে ৫জি মোবাইল ফোনসেবা চালু করব। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফোরজির মতো বিলম্বিত অবস্থানে নয়, প্রথম অবস্থানেই থাকবে বাংলাদেশ।